জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে নারীর সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। জাপানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টোকিও শোকো রিসার্চের জরিপে দেখা গেছে, চলতি বছর দেশটিতে নারী সিইওর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ২৬২। এ সংখ্যা মোট সিইওর ১৫ শতাংশের বেশি, যা এ-যাবৎকালের সর্বোচ্চ। খবর জাপান টাইমস।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে জরিপের ফল প্রকাশ করে টোকিও শোকো রিসার্চ। তাতে বলা হয়েছে, জাপানের ৪২ লাখ ২৫ হাজার প্রতিষ্ঠানে নারী প্রেসিডেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০১০ সালের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। ১৪ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১০ হাজারের কিছুটা বেশি। অন্যদিকে ২০২৩ সালের চেয়ে চলতি বছর নারী সিইওর সংখ্যা বেড়েছে ৩৭ হাজার ৩৮ জন (৬ শতাংশ)।
প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে টোকিও শোকোর জরিপে বলা হয়েছে, ‘নারীর ক্ষমতায়নে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের সহযোগিতা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নারী কর্মপরিবেশ উন্নয়নের মধ্য দিয়ে কোম্পানিগুলোও এতে ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু নারীর কাজ সম্পর্কে প্রথাগত যে ধারণা, সেটা এখনো রয়েছে। ফলে ঘরের কাজ কিংবা সন্তানের দেখভাল করার ক্ষেত্রে পুরুষের সহযোগিতা নারীর জন্য খুবই জরুরি।’
বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে বর্তমানে নারী সিইও হিসেবে জাপান এয়ারলাইনসে মিৎসুকো তোতরি ও নোমুরা রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কাগা ইয়ানাগিসাওয়া দায়িত্ব পালন করছেন।
সবচেয়ে বেশি নারী সিইও রয়েছেন রাজধানী টোকিওতে; ১ লাখ ৬৫ হাজার ১০২ জন। তালিকায় এর পরই রয়েছে যথাক্রেমে ওসাকা ৬৩ হাজার ১৭৭ ও কানাগাওয়া ৪১ হাজার ৬১৪ জন। সবচেয়ে কম নারী সিইও রয়েছে তোতরি শহরে, ১ হাজার ৬৯৭ জন। নারী-পুরুষের অনুপাতে সবচেয়ে বেশি নারী সিইও রয়েছে ওকিনাওয়া শহরে; ২০ দশমিক ৬২ শতাংশ। তালিকায় এর পরই রয়েছে যথাক্রমে ইয়ামানাশি ১৭ দশমিক ৩৬ ও টোকিও ১৭ দশমিক ২১ শতাংশ। এক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে নিগাতা শহর; সেখানে নারী সিইও রয়েছে ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
জরিপে দেখা গেছে, নারী সিইওর গড় বয়স ৬৫ বছর ১ মাস, যা পুরুষ সিইওর গড় বয়সের চেয়ে ১ বছর ৮ মাস বেশি। নারী সিইও থাকা বেশির ভাগ কোম্পানি খুব একটা বড় নয়। এ ধরনের ৬৯ দশমিক ৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয় গড়ে ৬ লাখ ৫৮ হাজার ডলার। এছাড়া নারী সিইও থাকা ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংখ্যা পাঁচজনের কম। মূলত রেস্তোরাঁ ও প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানগুলোয় নারী সিইওর সংখ্যা বেশি।